কেন্দ্র সরকারের নতুন ডিজিটাল নিয়মের জেরে এবার বিপাকে পড়ল লক্ষ লক্ষ প্রবীণ নাগরিক। জাতীয় সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় বার্ধক্য ভাতা (Old Age Pension) পাওয়ার জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে ডিজিটাল লাইফ সার্টিফিকেট (Digital Life Certificate)। তবে এই সার্টিফিকেট তুলতে এবার বড়সড় গেরোয় পড়েছে রাজ্য প্রশাসন। প্রশাসনিক সূত্রে খবর পাওয়া গেল, শুধুমাত্র বায়োমেট্রিক বা চোখের রেটিনা স্ক্যান সংক্রান্ত জটিলতার কারণে ২ লক্ষ প্রবীণ নাগরিকের ডিজিটাল লাইফ সার্টিফিকেট সম্পন্ন করা যায়নি। ফলত, তাদের কেন্দ্রীয় ভাতা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
Old Age Pension – ডিজিটাল লাইফ সার্টিফিকেট
আসলে গত ৮ মাস ধরে কেন্দ্র সরকারের নির্দেশে নির্দিষ্ট অ্যাপের মাধ্যমে আঙুলের ছাপ এবং রেটিনা স্ক্যান নিয়ে ডিজিটাল লাইফ সার্টিফিকেট দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে খতিয়ে দেখা যাচ্ছে, বার্ধক্যজনিত কারণে বহু প্রবীণ নাগরিকের আঙুলের ছাপ মিলছে না। আবার অনেকের চোখের রেটিনা স্ক্যান করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই নিয়ম মানতে গিয়ে প্রকৃত উপভোক্তারা এই তালিকা থেকে বাদ পড়ছে।
কতজন উপভোক্তা ঝুঁকির মুখে?
বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের ‘জয় বাংলা’ প্রকল্পের আওতায় বৃদ্ধ, বিধবা এবং বিশেষভাবে সক্ষম নাগরিকরা এই ভাতা পেয়ে থাকে। এমনকি সেই সংখ্যা ১ কোটিরও বেশি। প্রতি মাসে তারা ১০০০ টাকা করে ভাতা পায়, যার মধ্যে NSAP প্রকল্পে (National Social Security Scheme) বার্ধক্য ভাতা পায় প্রায় ২০ লক্ষ ৪৮ হাজার উপভোক্তা।
এদিকে Digital Life Certificate নিয়ে ৬০ থেকে ৮০ বছর বয়সীরা মাসে ১০০০ টাকা পান, যার মধ্যে কেন্দ্র সরকার দেয় ৩০০ টাকা আর রাজ্য সরকারের তহবিল থেকে আসে ৮০০ টাকা। এমনকি ৮০ বছরের ঊর্ধ্বে হলে খরচের ৫০% বহন করে রাজ্য সরকার। তবে তুলনামূলকভাবে কম টাকা দেওয়া সত্ত্বেও কেন্দ্র সরকার নতুন করে এই ডিজিটাল লাইফ সার্টিফিকেটের নিয়ম চালু করেছে, যা এখন সমস্যার মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গ্রাম-শহর দুই জায়গাতেই সমস্যা
NSAP প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে মূলত গ্রামীণ এলাকায় পঞ্চায়েত দফতর এবং শহর এলাকায় পুর দফতরের আওতায় SUDA সংস্থার। সূত্রের খবর অনুযায়ী, গ্রামে প্রায় ৮৭ শতাংশ উপভোক্তার ডিজিটাল লাইফ সার্টিফিকেট সম্পন্ন হয়েছে। অর্থাৎ, ২ লক্ষের বেশি প্রবীণ নাগরিকের বায়োমেট্রিক যাচাই এখনও পর্যন্ত হয়নি। আর শহর এলাকাতেও একই পরিস্থিতির আশঙ্কা।
সম্প্রতি এক প্রশাসনিক আধিকারিক জানিয়েছেন যে, চোখের রেটিনা স্ক্যানের সময় দীর্ঘক্ষণ চোখ খোলা রাখতে হয়। তাই অনেক প্রবীণ নাগরিক শারীরিকভাবে তা করতে পারছে না। এমনকি জোর করলে তা তাদের পক্ষে যন্ত্রণাদায়ক হয়ে উঠছে। ফলত, মানবিক কারণে কর্মরত আধিকারিকরা তাদের উপর চাপও দিতে পারছে না।
আরও পড়ুন: Business Loan – এই 10টি ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট থাকলেই, প্রতিষ্ঠিত হতে টাকা দেবে মোদী সরকার।
নেই কোনও বিকল্প ব্যবস্থাও
এদিকে প্রশাসনিক মহলের একাংশের বক্তব্য, এই Digital Life Certificate প্রকল্প প্রবীণ নাগরিকদের জন্য। কিন্তু সেখানে বয়সজনিত সমস্যার কথা জেনেও কেন বিকল্প পদ্ধতি রাখা হয়নি। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারের পক্ষে যাদের ডিজিটাল লাইফ সার্টিফিকেট সম্ভব হচ্ছে না, তাদের অন্যান্য নথিসহ আলাদা তালিকা তৈরি করছে। আর জেলাস্তরের আধিকারিকদের সেই তালিকা প্রস্তুতির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।